Mesbah Sumon
Scroll Down
Categories
//বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচিতি

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচিতি

May 14, 2014Category : BSK Activity

IMG_0036

কোটি প্রাণে আলো ছড়ানোর প্রত্যয়ে ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগান নিয়ে ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশের খ্যাতিমান উপস্থাপক, লেখক, সংগঠক, জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নামের বাতিওয়ালা স্বপ্নদ্রষ্টার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, যা তিন যুগ ধরে আলোকিত মানুষ গড়তে এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার অভ্যাস ও আগ্রহ তৈরিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহ, মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারি, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সংগীত ও চলচ্চিত্রের আর্কাইভ, ক্যাফেটেরিয়াসহ ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগান বুকে নিয়ে বাংলামোটর মোড়ের মেইন সড়কের সরু গলি দিয়ে ১০০ হাত সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক সুযোগসংবলিত নয়তলাবিশিষ্ট বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে পাঠচক্র দিয়ে তৎকালীন এডুকেশন সেন্টারে শুরু হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম। সময়ের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইন্দিরা রোডের ছোট টিনশেড বাড়ির ১৫ জন সদস্য থেকে আজ সদস্য সংখ্যা ১৫ লাখ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যত বিস্তৃত হচ্ছে ততই নতুন উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছে পাঠ অভ্যাস ও আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে এ তীর্থস্থান। দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ হাঁটি হাঁটি পা পা করে পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন রূপ নিয়েছে বৃহৎ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে, যা আলো ছড়াচ্ছে লাখো মানুষের হৃদয়ে; যা একদিন পুরো বাংলাদেশকে আলোকিত করবে। পুরো বাংলাদেশ একদিন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পরিণত হবে। এমনটাই ভাবেন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সায়ীদ স্যার।

1 (2)

স্যার বলেন– অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মদানের ভিতর দিয়ে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ তার নির্মাণের পর্ব। এই নির্মাণকে অর্থময় করার জন্যে আজ এ-দেশে চাই অনেক সম্পন্ন মানুষ; সেইসব মানুষ যারা উচ্চ-মূল্যবোধসম্পন্ন, আলোকিত, উদার, শক্তিমান ও কার্যকরÑ যারা জাতীয়-জীবনের বিভিন্ন অঙ্গনে শক্তিমান নেতৃত্ব দিয়ে এই জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারবে। তাদের আজ পেতে হবে আমাদের বিপুল সংখ্যায় সারা দেশে, সবখানে। এককে-দশকে নয়; সহস্রে, লক্ষে। আর কেবল সংখ্যায় পেলেই চলবে না তাদের পেতে হবে একত্রিত ও সমবেতভাবে। তাদের গ্রথিত করতে হবে শক্তিশালী সংঘবদ্ধতায়, উত্থান ঘটাতে হবে জাতীয় শক্তি হিশেবে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য: সারা দেশের সবখানে এইসব আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা, জাতীয় শক্তি হিশেবে তাদের সংঘবদ্ধ করা এবং এরই পাশাপাশি দেশের মানুষের চিত্তের সামগ্রিক আলোকায়ন ঘটানো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যগুলোকে সফল করে তোলার জন্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ১৯৭৮ সাল থেকে এ-পর্যন্ত দেশভিত্তিকভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কর্মসূচিগুলো নিম্নরূপ :

১. দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম
২. পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রম
৩. জাতীয়ভিত্তিক লাইব্রেরি কার্যক্রম
৪. আলোর ইশকুল
৫. প্রকাশনা কার্যক্রম
৬. শ্রবণ-দর্শন কার্যক্রম
৭. বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সাংস্কৃতিক ভবন

কর্মসূচিরগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

১. দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ কর্মসূচি:  স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মনের বিকাশ ও উৎকর্ষের লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রথম বড় কর্মসূচি এটি। ১৯৮৪ সালে শুরু হয়ে এ-পর্যন্ত কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়েছে দুটি আদলে। প্রথম পর্বে (১৯৮৪-২০০২) এই কর্মসূচির আওতায় দেশের যেখানেই একসঙ্গে দু-তিনটি স্কুল ও দু-একটি কলেজ পাওয়া গিয়েছিল সেখানেই, ওই শিক্ষায়তনগুলোর সঙ্গে উপগ্রহের আদলে, এই কার্যক্রমের একটি করে শাখা গড়ে তোলা হয়েছিল।  একজন সংস্কৃতিবান, যোগ্য ও উদ্যমশীল মানুষের নেতৃত্বে আলোকিত পরিবারের মতো করে গড়ে উঠেছিল এই শাখাগুলো। তারপর ওই শিক্ষায়তনগুলোর ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ এই সাতটি শ্রেণির মেধাবী, প্রতিভাবান ওই উদ্যম-উৎসাহসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের খুঁজে এনে বছরের-পর-বছর ধরে ওই শাখায় তাদের সম্পন্ন মানুষ হিশেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। দু-ভাবে এই চেষ্টা চলছে : [১] ওই সাত বছরে তাদের মন ও বয়সের উপযোগী প্রায় পৌনে দুশো শ্রেষ্ঠ বই পঠন-পাঠনের ভেতর দিয়ে (প্রতিবছর ১৬টি নিয়মিত ও ৯টি অতিরিক্ত বই)। বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য ছিল পর্যাপ্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা। [২] একটি আনন্দময় বহুমুখী সাংস্কৃতিক জীবনের ভেতর দিয়ে তাদের সুস্মিতভাবে বিকশিত করে তোলার মাধ্যমে। বইপড়ার মাধ্যমে ঘটেছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ভেতর দিয়ে হৃদয়বৃত্তির। এভাবে জীবনের সূচনালগ্নেই তারা হৃদয়বান, মননশীল ও আনন্দময় মানুষ হিশেবে বিকশিত হবার সুযোগ পেয়েছে। ২০০২ সাল পর্যন্ত সারা দেশে এই কর্মসূচির শাখা ছিল ১১০০টি। এই শাখাগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়মিতভাবে উৎকর্ষসম্পন্ন মানুষ হিশেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

1 (3)

পট পরিবর্তন :  ২০০৪ সালে এসে এই দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম, হুবহু একই আদলে, স্কুল-কলেজের বাইরে থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যায় স্কুল-কলেজের ভেতরে। শুরু হয় আলাদা আলাদা স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম। স্কুল-কলেজগুলোর প্রধান শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী ও অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষাদের অভিভাবকত্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন যোগ্য ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক-অধ্যাপকের নেতৃত্বে নতুন চরিত্র নিয়ে শুরু হয় এটি। বর্তমানে দেশের ১৬০০ স্কুল ও কলেজে কর্মসূচিটি চলছে। মোট সভ্য সংখ্যা ২ লক্ষ।

২. পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রম

কেন্দ্রের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে ২০০৯ সালে। এই কার্যক্রমটি কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির স্কুল পর্যায়ের কর্মসূচিটির হুবহু অনুরূপ, কিন্তু আকারে অনেক বড়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকায়েপ কর্মসূচির পক্ষ থেকে এটি আমরা পরিচালনা করছি। দেশের ১২৫টি উপজেলার ৬৬৬৯টি স্কুলে ও মাদ্রাসায় এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মোট সদস্যসংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। ২০১৫ সাল থেকে এই কার্যক্রমে আরও নতুন ৪০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে যাচ্ছে। এতে এই কার্যক্রমের সদস্যসংখ্যা বেড়ে হবে প্রায় ১২ লক্ষ। পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রম এই মুহূর্তে কেন্দ্রের বৃহত্তম কার্যক্রম। কর্মসূচিটি দেশের সব স্কুলে ও মাদ্রাসায় সম্প্রসারিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

1 (7)

 ৩. জাতীয়ভিত্তিক লাইব্রেরি কার্যক্রম

জাতীয় চিত্তের আলোকায়নের লক্ষ্যে এই কার্যক্রমের আওতায় নেওয়া হয়েছে দুটি উদ্যোগ :

ক. ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি:  বইপড়ার সুবিধাকে সারা দেশের সব মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ হলে দেশের প্রতিটি জেলাশহর-সহ প্রতিটি উপজেলায়, ইউনিয়নে, দেশের প্রতিটি সংযোগ-সড়কের দুপাশের গঞ্জ, বাজার ও বর্ধিষ্ণু গ্রামগুলোতেও কেন্দ্রের বইপড়ার সুবিধা পৌঁছে যাবে। এ পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী মহানগরীগুলো-সহ ৫৬টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজার। ভবিষ্যতে এর ব্যাপক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

1 (1)

খ. ঢাকা লাইব্রেরি :  ঢাকায় একটি ভালো মানের লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। সুপরিসর ও দৃষ্টিনন্দনভাবে সজ্জিত ১ লক্ষ ৭০ হাজার বইয়ের একটি সুসমৃদ্ধ লাইব্রেরি এটি।

1 (5)

1 (6)

৪. আলোর ইশকুল

উদার উৎকর্ষময় ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকাস্থ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনে শুরু হয়েছে কেন্দ্রের নতুন কর্মসূচি : ‘‘আলোর ইশকুল। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রতি পাঁচ বছরে এই ইশকুলের সভ্যদের জন্য শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা থেকে শুরু করে দর্শন, বিজ্ঞান বা মানববিদ্যার প্রায় প্রতিটি শাখার ওপর আয়োজিত হবে ১০০টি উৎকর্ষচক্র। চক্রগুলোর আনন্দময় ও সম্পন্ন পরিবেশে অংশ নিয়ে সভ্যেরা বিকশিত ও বহুমাত্রিক মানুষ হয়ে উঠবেন, কেন্দ্র এ আশা করে। আলোর ইশকুলের পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নানা বিষয়ের ওপর সক্রিয় রয়েছে বেশ কিছু পাঠচক্র।

৫. প্রকাশনা কার্যক্রম

দেশের মানুষের চিত্তের আলোকায়নের লক্ষ্যে এটি কেন্দ্রের আর একটি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাভাষার শ্রেষ্ঠ বইগুলো প্রকাশের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ভাষার শ্রেষ্ঠ বইগুলো বাংলায় প্রকাশের চেষ্টা চলছে। এ-পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বই প্রকাশিত হয়েছে।

৬. শ্রবণ-দর্শন কার্যক্রম

জাতীয়ভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম ও আলোর ইশকুলের সদস্য-সহ দেশের আলোকপিপাসু ব্যক্তিদের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত শোনার ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ প্রসারিত করার মাধ্যমে তাঁদের শিল্পরুচিকে সম্পন্ন ও সৌকর্যময় করে তোলার জন্য পরিচালিত এই কার্যক্রম। এর বিভাগ দুটি :

 ক. বিশ্ব চলচ্চিত্র লাইব্রেরি:  বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের একটি উন্নতমানের সংগ্রহ রয়েছে এই লাইব্রেরিতে। এই লাইব্রেরির উদ্যোগে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে একটি চলচ্চিত্র চক্র।  এছাড়াও রুচিশীল ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের চলচ্চিত্র-রুচির বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর সারা দেশের জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর ২০০টি স্কুল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বাইরের চলচ্চিত্র-প্রেমিকদের জন্য শহরগুলোর বিভিন্ন মিলনায়তনে মোট ২৫০টি চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ দর্শক এই উৎসবগুলোয় প্রদর্শিত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো উপভোগের মাধ্যমে তাদের জীবনদৃষ্টি ও শিল্পরুচিকে উৎকর্ষময় করার সুযোগ পান।

খ.  শ্রবণ বিভাগ:  এই বিভাগের আওতায় ঢাকাস্থ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যালয়ে বিশ্বসংগীতের একটি লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকাস্থ  কেন্দ্রের বিভিন্ন উৎকর্ষ কার্যক্রমের সদস্য এবং সাধারণ সংগীতপিপাসু ও আগ্রহী শ্রোতারা এই সংগীত-লাইব্রেরির সদস্য হয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত শ্রবণের, সংগীত বিষয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া দেশে মানসম্মত ও রুচিশীল সংগীতের শ্রোতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে এই বিভাগের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগীতের ওপর নানারকম অনুষ্ঠান নির্মাণ করে সেগুলোকে বিভিন্ন এফ.এম. রেডিওর মাধ্যমে সম্প্রচার করার ও পরবর্তীতে এফ.এম. রেডিও স্টেশন স্থাপন করে এই সংগীতকে দেশের গণমানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

৭. বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সাংস্কৃতিক ভবন

সারা দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র হিশেবে ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অঙ্গনে গড়ে তোলা হয়েছে একটি নয়তলা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স। ভবনটি ৫৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের। এই ভবনটি প্রাণচঞ্চল রয়েছে নানামুখী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। এখানে আছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার  বই সম্বলিত একটি সুসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, একটি আর্ট গ্যালারি, তিনটি মিলনায়তন, একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কেন্দ্র, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, একটি উন্নতমানের বইবিক্রয় কেন্দ্র,  একটি ভিডিও রেকর্ডিং স্টুডিও, পঠন-পাঠনের এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড জন্য ১০টি পাঠ ও অন্যান্য কক্ষ, অতিথিশালা, কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ও ছাদে একটি করে উন্মুক্ত ও সুপরিসর ক্যাফেটেরিয়া, ইত্যাদি।

1 (4)

       IMG_0007

উপসংহার

দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যায় আলোকিত, কার্যকর, উচ্চ-মূল্যবোধ ও সম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা, তাদের জাতীয় শক্তি হিশেবে সংঘবদ্ধ ও সমুন্নত করা এবং দেশের আপামর মানুষের চিত্তের সার্বিক আলোকায়ন ঘটানোর লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়োজিত। জাতীয় জীবনে উচ্চায়ত চৈতন্য ও আলোকের পদপাত আমাদের আজ ঘটাতেই হবে, যদি একটি বড়-দেশ আর বড়-জাতিকে আমরা গড়ার কথা ভাবি। ক্ষুদ্র মানুষ আর বড় জাতি একসঙ্গে থাকতে পারে না।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোকিত মানুষের স্বপ্ন এমনি এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্যে।

তখ্য সূত্র: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছোট্ট পরিচিতি।

  • 0 Comment

©2018 Mesbah Uddin Sumon / All rights reserved. Website Designed By Magnetic WP

Get in Touch
Close
Mesbah Sumon