Mesbah Sumon
Scroll Down
Categories
//৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনা

৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনা

August 22, 2018Category : Blog

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে তরুণদের দায়বদ্ধতা

পরিবেশ ধ্বংসের কারণেই পৃথিবী বহু দেশের মানচিত্র পাল্টে গেছে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক পাহাড় পর্বতের ঠিকানা আজ সমুদ্রে।পৃথিবী নামক এ গ্রহে প্রাণিকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সুস্থ ও অনুকূল পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় রোধে জাতিসংঘ ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন দিনটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। মূলত গণমানুষের মাঝে পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরতেই বছর ঘুরে দিনটি উদযাপিত হয়ে থাকে।

বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য বিশেষত সাগর ও মহাসাগরের বাস্তুসংস্থানকে সুরক্ষা প্রদানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৮-এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে— ‘প্লাস্টিক দূষণ রোধ: যা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য নয়, তাকে না বলুন’।

আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে, স্বদেশের নির্মল পরিবেশ প্রতিটি মানুষের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বায়নের এ যুগে যেসব নতুন ও জটিল সমস্যা এবং সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে চলেছে ভীতিজনকভাবে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাদের চাহিদা। বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা, শিল্পকারখানাসহ জীবনযাপনের যাবতীয় উপকরণের চাহিদা। আর এসব অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে গিয়ে পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দ্রুতগতিতে ঘটে চলেছে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়। পরিবেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার মতো এ বিশাল কর্মভার বাস্তবায়ন করা আদৌ সরকারের পক্ষে একা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের অন্যান্যদের মতো তরুণ সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো ব্যাপারে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তরুণরাই অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বিশেষ করে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষিত তরুণরা বিদ্যার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনসেবামূলক কর্মে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে গণসচেতনতা বাড়াতে পারে। তরুণরা যদি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে তাহলেও ব্যাপক গণসচেতনতা বাড়বে। এতে সাধারণ জনগণ পরিবেশ বিপর্যয় রোধে উদ্বুদ্ধ হবে। আর তরুণরাও সমাজের লোকজন, সর্বোপরি জাতির কাছে সুনামের পাত্র হিসেবে পরিচিতি পাবে, যা তরুণদের সৎ ও মহৎ মানুষ হয়ে বেড়ে উঠতে উৎসাহ জোগাবে।

  • 0 Comment

©2018 Mesbah Uddin Sumon / All rights reserved. Website Designed By Magnetic WP

Get in Touch
Close
Mesbah Sumon